Babar khmota Part 1, বাবার ক্ষমতা পার্ট ১।

Babar khmota বাবার ক্ষমতা

আমার ছেলে তার স্ত্রীর সামনে আমাকে ৩০ বার আ*ঘাত করল…

আর পরের সকালে, সে যখন নিশ্চিন্তে অফিসে বসে ছিল, আমি চুপচাপ সেই বাড়িটা বিক্রি করে দিলাম—যেটাকে সে নিজের সাম্রাজ্য ভাবত।

যখন ত্রিশতম চ*ড়টা এসে আব্দুল করিমের গালে পড়ল, তখন তার ঠোঁট ফেটে র**ক্ত বের হচ্ছিল। মুখে লবণাক্ত ধাতব স্বাদ জমে ছিল, কিন্তু ব্যথাটা শরীরে যতটা ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল ভেতরে।

সে চিৎকার করেনি। হাত তোলে নাই। কাউকে ডাকেও নাই।

সে শুধু গুনছিল।

১…

২…

৩…

ঠিক যেমন সে একসময় ইট, বালি, সিমেন্ট মেপে মেপে একটা ভবনের ভিত্তি দাঁড় করাত।

ঠিক তেমন হিসাব করে সে গুনছিল—তার নিজের ছেলের হাতের আ*ঘাত।

৩০।

ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

ঢাকার বসুন্ধরা এলাকার সেই পাঁচতলা বাড়ির ড্রইংরুমে তখনো অতিথিরা বসে ছিল। দামি সোফা, কাচের সেন্টার টেবিল, দেয়ালে বড় বড় পেইন্টিং—সবকিছু যেন বাইরে থেকে নিখুঁত।

কিন্তু ভিতরে?

সবকিছু পচে গেছে।

নিশাত—তার ছেলের স্ত্রী—সাদা সোফায় বসে ছিল, ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি।

এমন হাসি, যা দেখলে মনে হয় ভদ্রতা… কিন্তু একটু খেয়াল করলে বোঝা যায়—এটা অবজ্ঞা।

রায়হান হাঁপাচ্ছিল।

তার শার্টের বোতাম খোলা, চোখ লাল, কণ্ঠ ভারী।

“আপনি ভাবেন সবকিছু আপনার?” সে বলল।

“এই বাড়ি, এই লাইফস্টাইল—সব আমি বানিয়েছি!”

আব্দুল করিম ধীরে মাথা তুলল।

চোখে পানি ছিল না। রাগও না।

শুধু একধরনের স্বচ্ছতা।

যে স্বচ্ছতা মানুষ পায়—যখন সে সব বুঝে যায়।

সবকিছু শুরু হয়েছিল একটা “উপহার” দিয়ে।

পাঁচ বছর আগে, আব্দুল করিম তার সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে এই বাড়িটা কিনেছিল।

ঢাকার জমি বিক্রি, পুরনো ব্যবসা বন্ধ—সব মিলিয়ে যা পেয়েছিল, সেটা দিয়েই এই বাড়ি।

তখন রায়হান নতুন বিয়ে করেছে।

সে চেয়েছিল ছেলে যেন ভালোভাবে সংসার শুরু করে।

তাই সে বলেছিল,

“এই বাড়িটা তোমাদের জন্য।”

কিন্তু একটা কথা সে বলেনি।

দলিলটা কখনো রায়হানের নামে হয়নি।

বাড়িটা ছিল “করিম ডেভেলপমেন্ট” নামে একটা কোম্পানির।

আর সেই কোম্পানির একমাত্র মালিক—আব্দুল করিম নিজে।

রায়হানের কাছে এটা ছিল উপহার।

আব্দুল করিমের কাছে—একটা পরীক্ষা।

শুরুতে সব ঠিকই ছিল।

রায়হান ছোটবেলায় এমন ছিল না।

সে বাবার হাত ধরে বাজারে যেত, কাজের সাইটে দাঁড়িয়ে দেখত কিভাবে একটা বিল্ডিং দাঁড়ায়।

সে বাবাকে “হিরো” ভাবত।

কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে কিছু বদলে গেল।

প্রথমে সে বাবার পেশা নিয়ে লজ্জা পেতে শুরু করল।

“বাবা, তুমি এসব লেবারদের সাথে দাঁড়িয়ে থাকো কেন?”

“তোমার কাপড়ে সিমেন্টের গন্ধ আসে…”

তারপর ধীরে ধীরে—সে বাবাকেই লজ্জা পেতে শুরু করল।

নিশাত আসার পর সবকিছু দ্রুত খারাপ হলো।

নিশাত এমন পরিবার থেকে এসেছে, যারা খুব ধনী না… কিন্তু ধনী দেখাতে ওস্তাদ।

সে জানত কোন রেস্টুরেন্টে গেলে ছবি ভালো আসে,

কোন ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করলে “ক্লাসি” শোনায়,

আর কিভাবে কাউকে ছোট করে কথা বলতে হয়—হাসিমুখে।

বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই নিয়ম শুরু হলো।

“বাবা, আসার আগে একটু জানিয়ে আসবেন।”

“আমাদের একটু প্রাইভেসি দরকার…”

“গেস্ট থাকলে আপনি না আসলেই ভালো হয়।”

আব্দুল করিম প্রথমে কিছু বলেনি।

সে ভাবত—সময় গেলে ঠিক হয়ে যাবে।

কিন্তু সময় ঠিক হয়নি।

বরং খারাপ হয়েছে।

ধীরে ধীরে, সে বুঝতে পারল—এই বাড়িতে তার জায়গা কমে যাচ্ছে।

একসময় যে ডাইনিং টেবিলে সে বসে খেত,

এখন তাকে বলা হয়—

“আপনি পরে খেয়ে নেবেন।”

একসময় যে ঘরে সে নিজের হাতে ফ্লোর বসিয়েছিল,

সেই ঘরে ঢুকতে এখন তার অনুমতি লাগে।

একদিন সে শুনে ফেলল—

নিশাত বলছে,

“তোমার বাবা আসলে একটা বোঝা।

আমাদের লাইফস্টাইলের সাথে যায় না।”

রায়হান চুপ ছিল।

এই চুপটাই আব্দুল করিমকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছিল।

আর তারপর এল সেই রাত।

রায়হানের জন্মদিন।

বড় আয়োজন।

ক্যাটারিং, লাইটিং, ডিজে—সব।

আব্দুল করিম একটা ছোট বাক্স নিয়ে এল।

ভিতরে ছিল একটা পুরনো ঘড়ি।

তার বাবার দেওয়া।

তার পরিবারের একমাত্র স্মৃতি।

সে হাসিমুখে বলল,

“ভাবলাম এটা তোমার কাজে লাগবে।”

রায়হান বাক্সটা খুলে তাকাল।

তারপর হেসে ফেলল।

“এইটা?”

“এই পুরনো জিনিস তুমি আমার গেস্টদের সামনে দিচ্ছো?”

চারপাশে লোকজন ছিল।

কেউ কিছু বলল না।

নিশাত ফিসফিস করে বলল,

“প্লিজ, এমবারাস করো না…”

এরপর যা হলো—

তা আব্দুল করিম জীবনে কখনো কল্পনা করেনি।

প্রথম চ*ড়টা হালকা ছিল।

দ্বিতীয়টা জোরে।

তারপর একটার পর একটা…

আর সে শুধু গুনছিল।

সকালটা ছিল অদ্ভুত শান্ত।

আব্দুল করিম ভোরে উঠে গেল।

মুখ ধুয়ে আয়নায় তাকাল।

গালে দাগ। ঠোঁট কা*টা।

কিন্তু চোখে একটাই জিনিস—

সিদ্ধান্ত।

সে চুপচাপ একটা ফাইল বের করল।

পুরনো কাগজপত্র।

বাড়ির দলিল।

কোম্পানির কাগজ।

তারপর ফোন করল এক পুরনো পরিচিতকে—

একজন রিয়েল এস্টেট এজেন্ট।

“আজই বিক্রি করতে হবে,” সে বলল।

“দাম কম হলেও সমস্যা নাই।”

ওপাশ থেকে অবাক গলায় প্রশ্ন এল,

“স্যার, এত তাড়াহুড়া কেন?”

আব্দুল করিম একটু থামল।

তারপর শান্ত গলায় বলল—

“কারণ যারা এই বাড়িতে থাকে… তারা এটা প্রাপ্য না।”

ঠিক ১১টার দিকে ডিল ফাইনাল হলো।

ক্যাশ অ্যাডভান্স, সাইনেচার—সব শেষ।

আব্দুল করিম শেষবারের মতো বাড়িটার দিকে তাকাল।

তার নিজের হাতে বানানো দেয়াল…

তার নিজের ঘাম মিশে থাকা ইট…

সবকিছু ছেড়ে দিল সে।

কোনো আফসোস ছাড়া।

ওদিকে রায়হান তখন অফিসে।

মিটিং রুমে বসে, ল্যাপটপ খুলে প্রেজেন্টেশন দিচ্ছে।

নিজেকে খুব সফল মনে হচ্ছে তার।

তার ফোনটা তখনও সাইলেন্টে।

সে জানে না—

তার জীবনের সবচেয়ে বড় “লস”টা হয়ে গেছে।

দুপুর ১২টার সময় তার ফোনে একটা মেসেজ এল।

একটা ছবি।

একটা কাগজের।

বিক্রয় চুক্তিপত্র।

আর নিচে একটা ছোট লাইন—

“বাড়িটা বিক্রি করে দিলাম।

আজ সন্ধ্যার মধ্যে খালি করে দিও।”

রায়হানের হাত কেঁপে উঠল।

তার পৃথিবী…

এক মুহূর্তে ভে*ঙে পড়তে শুরু করল

চলবে..??????????